Share with your friends
  •  
  •  
  •   
  •  

বই নিয়ে তো অনেক কথাই হলো,আমাদের ভালবাসা প্রিয় একটা বিষয় বই, আমাদের অনেকেই তাদের বিশাল বইয়ের কালেশনের ছবি স্মৃতি, কথাও শেয়ার করেছেন,দারুন বিষয় কিন্তু পুরো টা। একটা ধ্রুব সত্য হলো,ভালবাসা কিন্তু যত্ন করতে হয় নয়ত হারিয়ে যায়,আর ঠিক তেমনি আমাদের ভালবাসা বই এবং বইগুলোর ও যত্ন করতে হবে। বই পড়া হয়ে গেল মানে সেটা যথাস্থানে রেখে দেওয়াই কিন্তু বইয়ের যত্নের সংজ্ঞা নয়।
আমি আমার যত্নের ধরনটা শেয়ার করতে চাই, তাহলে বলি –
লম্বা সময় পরে সেলফ বা আলমারি থেকে বই বের করার পর দেখা যায় তার পাতাগুলো কালো হয়ে গিয়েছে, উলটোতে গেলে ছিঁড়ে যাচ্ছে বা হলুদ হয়ে নরম হয়ে আছে। পোকা নষ্ট করে দিয়েছে পাতা।মাঝে মধ্যে তো পুরনো বইয়ের পাতা উলটোতে গেলেই ভেঙে পড়ে যায়। কমবেশি এই অভিজ্ঞতা পড়ুয়ারই আছে। আমাদের থাকার জায়গা বা ঘরের আয়তন যত কমছে বই রাখার সমস্যা ততই বাড়ছে। কিন্তু সব সময় তো বাড়ির আয়তন মাথায় রেখে বই কেনা আটকে রাখা যাবে না, গাদাগাদি করে এখানে-ওখানে বই রাখতে গিয়েই হয় যত বিপদ। দামি দুষ্প্রাপ্য বই অযত্নে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কিছু নিয়ম মেনে চললে বইকে ভাল, সুন্দর রাখা যায় বহু দিন।


• প্রতিমাসে না পরলেও আমি ৩/৪ মাস পর পর বই নামিয়ে নরম কাপড় দিয়ে ধুলো মুছে রোদে দিই। তবে চড়া রোদে নয়। যখন রোদের তেজ কম থাকে তখন দেয়। চড়া রোদ বইয়ের শত্রু। ঘরের যেই জায়গাটায় বই আমার, খুব আফসোস হয় সেখানে রোদ আসার সুযোগ নেই বলে নয়ত আরো ভাল থাকতো বইগুলো।আপনারাও বইয়ের যত্নে নিশ্চয়ই করেন এ কাজটি

• একটা জিনিস অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে৷, ড্যাম্প ধরা দেওয়ালে বইয়ের তাক তৈরি করবেন না। এই রকম দেওয়ালের স্পর্শে বই থাকলে বইয়ের পাতা নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া দেওয়ালে উই পোকা বাসা বাঁধলে তারাও বইকে ছাড় দেবে না। তাই সরাসরি দেওয়ালের সংস্পর্শে বই না রাখাই ভাল। আলমারি বা বইয়ের র‌্যাক কাঠের হলে কাঠ সিজন করিয়ে নিন। কোনও বইয়ে যদি উই ধরে যায় তবে সেই বইটি অন্য বইয়ের সঙ্গে রাখবেন না। তা হলে বাকি বইগুলিতেও উই ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

• বইয়ের পাতা ওলটোনোর সময়ের অনেকে আঙুলে থুথু লাগিয়ে পাতা উলটোয়। এটা যেমন বদভ্যাস, তেমনই মারাত্মক ক্ষতিকর বইয়ের আয়ুর ক্ষেত্রে। আমার ভীষন রাগ হয় এমন দেখলে।
• কতটা পড়া হয়েছে সেটা মনে রাখার জন্য পাতার কোনা মুড়ে পড়ার অভ্যেসটা বদলে ফেলুন। রেশমের ফিতে, কাগজের টুকরোর মতো হালকা কিছু বুক মার্ক হিসেবে ব্যবহার করুন।

• পাতা ওলটোনোর সময় যত্ন নিয়ে ধীরে–ধীরে পাতা উলটে পড়ুন। হাতের মধ্যে রেখে বই পড়ুন। বই পড়ার সময় কাগজের মলাট দিয়ে নিন। ভারী বই হলে তা শুয়ে নয়, টেব্‌লে রেখে পড়ুন। র‌্যাক থেকে বই নামিয়ে পড়ার সময় বইয়ের স্পাইন ধরে টান দেবেন না। পাশের দুটি বই পিছনে সরিয়ে আঙুল দিয়ে নির্দিষ্ট বইটি টেনে নিন।

• আলমারি বা সেলফে বই রাখার সময় খেয়াল রাখুন দুটো বইয়ের মধ্যে যেন একটু ফাঁক থাকে, বাতাস চলাচলের জন্য। লম্বা করে বই সাজিয়ে রাখুন। কম ভারী বই সেলফের উপরের দিকে রাখবেন। আলমারির ভিতর একটি বাটিতে কিছু ন্যাপথালিন রেখে দিলে পোকামাকড়ের উৎপাত কম হয়। বইয়ের পাতার ভিতর নিমপাতা শুকিয়ে রেখে দিলেও এই সমস্যা হয় না।আমি নিমপাতা শুকিয়ে ন্যাপথ্যালিন গুড়ো করে মিশিয়ে ছোট ছোট পোটলা করে বইয়ের ফাঁকে ফাঁকে দিয়ে রাখি, চমৎকার কাজ দেয় কিন্তু।

এটুকু যত্নেই আপনার বইগুলো থাকবে বহু বহু দিন পর্যন্ত ভালো।
বই পড়ুয়াদের দিন কাটুক বইকে ভালবেসে 🥰
ভালো থাকবেন।
সুন্দর থাকবেন সবসময়।