গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এর নেয়া পদক্ষেপ গুলি কি কি
গ্লোবাল ওয়ার্মিং
Share with your friends
  •  
  •  
  •   
  •  
গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এর নেয়া পদক্ষেপ গুলি কি কি
সমুদ্রের উচ্চতা মাত্র ১ মিটার বাড়লে দেশের মোট আয়তনের শতকরা ১৮ ভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হবে ও দেশের শতকরা প্রায় ১১ ভাগ লোক সরাসরি ক্ষতির মধ্যে পড়বে। সমুদ্রের এই উচ্চতা বৃদ্ধির বিপরীতে ৪৮০০ কিমি এলাকাতে উপকূল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ করতে হলে খরচ পড়বে আনুমানিক ১ বিলিয়ন ইউএস ডলার। আর এতে জিডিপি’র পরিমাণ শতকরা ২৮ থেকে ৫৭ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে ।
কক্সবাজার থেকে মাত্র ১৫ কিমি দূরে কুতুবদিয়ার গত একশো বছরে এর ২৫০ কিমি সংকোচন হয়ে হয়েছে ৩৭ কিমি। ইউএনডিপির হিসেব মতে এই হারে উচ্চতা বাড়তে থাকলে দেশের ১৫ – ১৮ শতাংশ আয়াতন পানির নীচে তলিয়ে যাবে ও প্রায় ৩০ লাখ লোক ‘পরিবেশ উদ্বাস্তু’ হয়ে যেতে পারে। গ্রীনহাউজ গ্যাস কমানোর জন্য বিশ্বব্যাপী একধরণের সচেতনতা তৈরী হলেও শেষপর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। এতে প্রধান দায় ঐ উন্নত দেশগুলোরই। তারপর ২০০৯ সালেও কোপেনহেগেন সন্মেলনে গ্রীনহাউস গ্যাস কমানোর ব্যাপারে একটি সমাধানে আসতে নেতৃবৃন্দ ব্যর্থ হয়। কানাডার স্টিফেন হারপারের সরকারও কোপেনহেগেনের কিয়োটো প্রটোকল থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।
বিশ্বব্যাঙ্ক এমনই একটি সংগঠন! বিশ্বব্যাঙ্কের ইতিহাসে এর নিজেরই জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর বিনিয়োগের বিশাল রেকর্ড আছে, আর ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ, পানি ও পড়ালেখাকে বাণিজ্যিকিকরণের উপদেশ দিয়ে দরিদ্র দেশগুলোর বিরাগভাজন হয়ে আছে, এখন তারাই আবার পাশ্চ্যাত্যের দেশগুলোর ফর্মুলার উপর ভিত্তি করে দরিদ্র দেশগুলোতে জলবায়ূ ঋণ দেয়ার পায়তারা করছে। বাংলাদেশসহ দরিদ্র দেশগুলো ইতিমধ্যেই এর বিরোধীতা করছে। বিশ্বব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত দরিদ্র দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে তাদের ক্ষতিই করছে।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এর নেয়া পদক্ষেপ গুলি কি কি
তবে আশার কথা পরিবেশের এই বিপর্যয়কে রুখতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ১৫০,০০০ ইউ এস ডলার দিয়ে সাইক্লোন শেল্টার তৈরী করেছে ও সাথে যোগ করেছে সতর্কতামূলক পূর্বাভাস। লবণাক্ততা সহ্য করার ক্ষমতাসম্পন্ন ধান উৎপাদন করেছে বাংলাদেশের ধান গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরা। জলবায়ুর এই পরিবর্তনের কারণে সহ্যশক্তি বাড়ানোর জন্য গত তিন দশকে বাংলাদেশ প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউএস ডলার খরচ হয়েছে। তাছাড়া ২০০৮ সালে পাচ বছরের (২০১৪ সাল পর্যন্ত) জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ সাপেক্ষে একটা প্ল্যান হাতে নেয়া হয়েছে। তাছার ইতোমধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে ৪৫ মিলিয়ন ইউএস ডলারের একটি পরিবেশ রক্ষা ফান্ড গঠন করা হয়েছে।
এত কিছুর পরও মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা খুব কম। কারণ নিত্যদিনের অগণিত সমস্যার মধ্যে জর্জরিত থেকে তাদের প্রতি তাৎক্ষণিক দৃষ্টি দিতে হয় বিধায় পরিবেশ বিপর্যয় দৃশ্যপটের বাইরেই থেকে যায়। আর দেশের বেশীর ভাগ মানুষই এই বিপর্যয়ের পরোক্ষ ভুক্তভোগী! প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগীদের কষ্টকে সাধারণেরা এখনো নিজেদের করে নিতে পারেনি। প্রতিবছর পানির কারণে বাস্তুচ্যুত লোকগুলির অসহায় চাহনি গণমাধ্যমেও সেভাবে না আসায় তারা আরো অন্ধকারে। আর যদি আসেই, তাও হাজারো সমস্যার ভিড়ে হয়তো সামান্য একটু সহানুভূতির সীমা অতিক্রম করতে পারে না। তবে এখনই যদি সচেতনতা গড়ে তোলা না যায় তাহলে করুণ একটি ভবিষ্যতকেই আমাদের মেনে নেয়া ছাড়া আর কোন গত্যন্তর নেই!
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে রোববার চতুর্থ গ্লোবাল সার্কেল ফর সায়েন্টিফিক, টেকনোলজিকাল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ (জিসিএসটিএমআর) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, “যে কোনো দেশের বিবেচনায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
“এজন্য বর্তমান সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।”