বয়ঃসন্ধিকালে অভিভাবকই রাখতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

Share with your friends
  •  
  •  
  •   
  •  

বয়ঃ সন্ধিকাল এমন একটি সময় যখন বাড়ন্ত শিশুটির প্রতি নিতে হয় বাড়তি যত্ন। বিভিন্ন সময়ে দিতে হয় সঠিক দিক নির্দেশনা। তাই এ সময়ে শিশুর মানসিক ও শারীরিক পরিপূর্ণ বিকাশে বাবা মা তথা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ সময়ে শিশুকে গঠন মূলক শিক্ষা দেয়া, সহযোগিতাপূর্ণ ও ভালবাসাময় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই আপনার প্রধান দায়িত্ব।

শিশুকে তার শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে আগে থেকেই ধারনা দিতে পারেন

যখন দেখবেন আপনার শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে তখন থেকেই ধীরে ধীরে শিশুকে তার এ পরিবর্তন সম্পর্কে ধারনা দিতে থাকুন। আগেই যদি সে এই পরিবর্তন সম্পর্কে ধারনা পেয়ে যায়, তাহলে সে ভবিষ্যতে তার এই পরিবর্তনগুলোকে সহজ ভাবে বুঝতে পারবে। তাকে গল্পের মত করে বা বাস্তবতার নিরিখে তার শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে বোঝাতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যেন শিশু আপনার কথায় ধারনার পরিবর্তে ভয় না পেয়ে যায়। শিশুটি যদি ছেলে হয়ে থাকে তাহলে বাবা আর মেয়ে হয়ে থাকলে মা এ ব্যাপারে ভালো ধারনা দিতে পারবে।

বয়ঃসন্ধিকালে আপনার শিশুকে দিন যথাযথ স্বীকৃতি

অনেক পরিবারে শিশুর এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাকে দূরে ঠেলে দেন। শিশুর এই পরিবর্তিত পরিবর্তনকে নিজেরাই মেনে নিতে পারেনা। শিশুকে অহেতুক বকাঝকা করা, তিরস্কার করা, ব্যাঙ্গ করে থাকেন। এতে শিশু নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। ‘’স্বীকৃতি’’ এমন একটি শব্দ যা ক্ষুদ্র হলেও এর শাব্দিক অর্থ ব্যাপক। একটি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে এ শব্দটির রয়েছে বিশাল ভূমিকা। স্বীকৃতির অন্তর্নিহিত শক্তি একটি শিশুকে বিকশিত রূপ দিয়ে আত্মবিশ্বাসী ও আত্মপ্রত্যয়ী করে তোলে। এটি শিশুকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। এই স্বীকৃতি শিশু প্রথম পেয়ে থাকে তার পরিবার থেকে। পরবর্তীতে তার বিদ্যালয়ে যা সে অর্জন করে তার মেধা, মনন, ও কর্মের মাধ্যমে। তাই শিশুর গঠনমূলকও ভাল কাজে প্রশংসার মাধ্যমে তার কাজকে স্বীকৃতি দিন।

শিশুকে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করুন

আপনি কি জানেন আপনার শিশুটি কিন্তু আপনার পরিবার থেকেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে। আত্মবিশ্বাস আর আত্মসম্মানবোধ  এমন একটি গুন যা একটি শিশুকে মানবীয় গুণসম্পন্ন হতে সাহায্য করে আর এ গুনটির বীজ কিন্তু পরিবার থেকেই বপন করা হয় এবং ধীরে ধীরে সে গুনটি বিকশিত হতে থাকে। শিশুর বয়সন্ধিকালে যে মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন হয় তা প্রথমে তার মা বা পরিবারের সদস্যরাই বুঝতে পারে।  তাই পরিবারের সদস্যদেরই তার এই পরিবর্তিত আচরণকে  স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়ে তার সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে। এই সময়টা শিশুর জন্য কিছুটা কঠিন সময়। তাই পরিবার ও বিদ্যালয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলে শিশু তার এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। শিশু হয়ে উঠে আত্মবিশ্বাসী।  কিন্তু এ সময়ে সে যদি পরিবার থেকে যথাযথ বন্ধুসুলভ আচরণ ও সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। শিশু হারিয়ে যেতে পারে তার অভীষ্ট লক্ষ থেকে।

শিশুকে উপযুক্ত সময় দিন

বয়ঃসন্ধিকাল এমন একটি সময় যখন শিশু তার শিশুকাল অতিক্রম করে ধীরে ধীরে কৈশোরে পদার্পণ করে। এ সময়ে শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মানসিক পরিবর্তনও ঘটে। শিশু নিজেই তার এ পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারে না।  এলোমেলো আচরণ করে। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আসক্ত হতে পারে। অচেনা জিনিসগুলো চিনতে  গিয়ে কখনো কখনো বিপদগামী হয়ে যায়। এ সময়ে সে যদি পরিবারের সহযোগিতা বা বন্ধুত্ব সুলভ আচরণ থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে  বিদ্যালয়ের বা আশেপাশের বন্ধুদের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করে। আর সেই বন্ধু নির্বাচনে যদি ভুল করে তাহলে শিশু বিপথগামী হয়ে যায়। ভুল বন্ধু নির্বাচনে  শিশু নেশাগ্রস্থ, মাদকাসক্ত, চুরি, ছিনতাই এর মতো নানা রকম অসৎ কর্মে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে।

তাই আপনার শিশুকে অবশ্যই উপযুক্ত সময় দিন। আপনি নিজেই হয়ে যান শিশুর সবচেয়ে ভালো বন্ধু। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় শুধু আপনার শিশুর জন্য বরাদ্দ রাখুন। তাকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যান।

শিশুকে অযথা সন্দেহ না করে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। কোন কারণে সে বিব্রত থাকলে বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে সেই কারণ জেনে সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে। তার পছন্দ আর অপছন্দকে গুরুত্ব দিতে হবে। এতেই শিশু তার বয়ঃসন্ধিকালকে উপভোগ করতে পারবে।