ভারতীয় ভিসা তে আর ই-টোকেন লাগবে না, কি ভাবে করবেন ইন্ডিয়ান ভিসা- বিস্তারিত জানুন এই সহজ নিয়ম

Share with your friends
  •  
  •  
  •   
  •  

ভারতীয় ভিসা জন্য  ই-টোকেন ছিল এক যন্ত্রনার নাম,  এখন থেকে আর ই-টোকেন লাগবে না। দিতে হবে না সাক্ষাতকারও। মানুষের ভোগান্তীরও অবসান ঘটছে। সহজেই মিলবে ভারতীয় ভিসা। এর জন্য অনলাইনে যে কোনো সময় আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদনের প্রিন্ট কপি, পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিসা আবেদন কেন্দ্রে জমা দিয়ে আসতে হবে। এরপর মোবাইলে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে ভিসা প্রদানের তারিখ। রাজধানীর সব ভিসাপ্রার্থীর জন্য থাকবে একটিই আবেদন কেন্দ্র।

সম্প্রতি রাজধানীর রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে সমন্বিত ও অত্যাধুনিক ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। সুবিশাল এই ভিসা আবেদন কেন্দ্রে সর্বাধিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের অ্যাটাশে কর্মকর্তা রঞ্জন মণ্ডল বলেছেন, ‘ই-টোকেন সংগ্রহ ও সাক্ষাতকারের প্রয়োজন হবে না। এখন থেকে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করেই ভিসা পাওয়া যাবে। নতুন ভিসা কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় সব সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রায় ১৯ হাজার স্কয়ারফিট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে একসঙ্গে ৭০০ জন বসতে পারবেন। প্রতিদিন পাঁচ হাজার ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

ভারতীয় ভিসা করতে এর আগে আগে অনলাইনে আবেদনের জন্য কম্পিউটারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ই-টোকেন সংগ্রহ করতে হতো। নির্ধারিত সময় এই টোকেন সংগ্রহে অনেকেই ব্যর্থ হতেন। ফলে কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে টাকার বিনিময়ে ই-টোকেন সংগ্রহ করতেন ভিসা প্রত্যাশীরা। অনেক সময় ফরম পূরণ করেও ই-টোকেন মিলতো না। ই-টোকেন সংগ্রহের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ভিসাকেন্দ্রগুলোতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিতে হতো ভিসা প্রত্যাশীদের। এ পরিস্থিতি পাল্টাতেই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভারতীয় ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার জন্য রয়েছে ৪৮টি কাউন্টার। মুক্তিযোদ্ধা, সিনিয়র সিটিজেন ও নারীদের জন্য আলাদা কাউন্টার রয়েছে। এ ছাড়া অপেক্ষমাণ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য বিল পরিশোধ করে কফি এবং কোমল পানীয় ভেন্ডিং মেশিন, খাবার দোকানসহ বিভিন্ন সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভিসা প্রার্থীদের সুবিধার জন্য ১৮ বছরের নিচে ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের পাঁচ বছরের ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে কয়েকজনকে ভিসাও দেওয়া হয়েছে দুই দেশের পক্ষ থেকে।

যেভাবে পাওয়া যাবে ভারতীয় ভিসা

ভারতীয় ভিসা র জন্য বর্তমানে ‘স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’ পরিচালিত ভারতীয় ভিসা সেন্টারের ওয়েবসাইটের https://indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/ মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে। পাসপোর্টসহ আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপির সঙ্গে দুই কপি ছবি (সত্যায়িত) দিতে হবে। এ ছাড়া আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পরিচয়পত্র না থাকলে অন্য পরিচয়পত্রের ফটোকপি, বাসা-বাড়ির বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা টেলিফোন বিলের ফটোকপি জমা দিতে হবে। নতুন পাসপোর্ট হলে এর সঙ্গে পুরাতন পাসপোর্টও জমা দিতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট না থাকলে ১৫০ ডলারের বেশি পাসপোর্টে এনডোর্স করতে হবে।

অনলাইনে ফরম জমা দেওয়ার পর পরবর্তী পাঁচদিনের মধ্যে ভিসা কেন্দ্রে গিয়ে পাসপোর্টসহ অনলাইনে জমা দেওয়া আবেদনের প্রিন্ট কপি (অন্যান্য কাগজপত্রসহ) জমা দিতে হবে। এই আবেদন জমার আগে ভিসা ফি বাবদ ইউক্যাশের মাধ্যমে ৬০০/৭০০ টাকা জমা দিতে হবে। ইউক্যাশের টোকেন ছাড়া আবেদন জমা নেওয়া হবে না। আবেদন জমার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে কবে আপনাকে ভিসা দেওয়া হবে। না দেওয়া হলে সেটাও জানিয়ে দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট দিনে গেলেই ভিসা পাওয়া যাবে।

ভারতীয় ভিসা আবেদনের বিস্তারিত নিয়ম

আপনারা যারা ভারত যেতে চাচ্ছেন টুরিস্ট হিসেবে তাদের প্রথম যে জিনিসটি জরুরি তা হল ভারতীয় ভিসা।  ইন্ডিয়ান ভিসা প্রসেস করার জন্য আপনারা হয়ত অনেকেই কোন এজেন্ট দিয়ে  ভিসার ফর্ম পুরন ও ভিসা ফি পরিশোধ করিয়ে থাকেন। এজন্য গুনতে হয় অতিরিক্ত খরচ। এছাড়া ফর্ম পুরনেও মাঝে মাঝে ভুল হয়ে থাকে যেগুলো নিজে করলে এড়ানো সম্ভব। এখন আপনি কিন্তু কোন এজেন্টের সহায়তা ছাড়াই নিজে নিজেই করে ফেলতে পারেন ফর্ম পুরন থেকে শুরু করে জমাদান পর্যন্ত সকল কাজ।

জেনে নিন ধাপগুলো:

১. আবেদন ফর্ম রেডি করা (পুরণ করা, ছবি আর স্বাক্ষর দেয়া)

২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংগ্রহ

৩. ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করা

৪. ভিসা আবেদন জমা দেয়া

৫. পাসপোর্ট সংগ্রহ বা ফেরত নেয়া।

ইন্ডিয়ান / ভারতীয় ভিসা র জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

পাসপোর্ট
এককপি ২x২ ইঞ্চি মাপের প্রিন্টেড ছবি ও আরেটি সফট কপি।
পুরনকৃত ফর্ম
স্মার্ট কার্ড/এনআইডি অথবা জন্ম সনদের ফটোকপি
ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা টেলিফোন বিল)
ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা ডলার এনডোর্সমেন্ট
পেশার প্রমাণপত্র (চাকুরিজীবি হলে NOC, ছাত্র হলে আইডি কার্ড বা বেতনের রশিদ আর ব্যাবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি)
অন্য কোন সাপোর্টিং কাগজ যদি দিতে চান।
পাসপোর্ট এর ডাটা পেইজের ফটোকপি
যদি পুরাতন পাসপোর্ট থাকে তাহলে অবশ্যই দিতে হবে। আর হারিয়ে গেলে লস্ট সার্টিফিকেট।

আইভ্যাক এ ঝুলানো কাগজপত্রের লিস্ট
সকল কাগজপত্রের মেইন কপি নিয়ে যাবেন, ওরা দেখতে চাইবে। না দেখাতে পারলে জমা নাও নিতে পারে। কাগজগুলো স্ট্যাপল করার দরকার নেই, ওরা বলে স্ট্যাপল করা থাকলে খুলে ফেলতে। আপনি চাইলে একটা ফাইলে সব নিতে পারেন।

ভারতীয় ভিসার আবেদন ফরম প্রস্তুত করা
আবেদন ফর্ম পুরন করার আগে আপনার এই অফিসিয়াল নির্দেশনাগুলো পড়া উচিৎ। আবেদনপত্র পুরন করার আগে আপনার ছবির একটা সফট কপি লাগবে যেটা আপনাকে একেবারে শেষ ধাপে আপলোড করতে হবে। তাই আগে থেকেই রেডি রাখুন। ওদের মতে ”ডিজিটাল ছবি ও একটি রঙ্গীন ছবি (উভয় ছবিই একই হতে হবে এবং তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে তোলা হতে হবে।” আর কোথায় কি তথ্য দিয়ে ফর্ম পুরন করতে হবে তা দেখুন IVAC প্রদত্ত এই ফাইলটিতে।

এখন ইন্ডিয়ান ভিসা ফরম পুরন করতে যান চলে এই লিংক https://indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/index.html তারপর ‘Online Visa Application‘ লিংকে ক্লিক করে তথ্য পুরন করা শুরু করুন।

যেখানে ইন্ডিয়ার কোন রেফারেন্স চাইবে সেখানে যেকোন হোটেলের নাম ঠিকানা, টেলিফোন দিলেই হবে।  গুগল ম্যাপে সার্চ দিলেই অনেক হোটেলের নাম পাবেন। একি ভাবে শেষের দিকে ভারতে কোন হোটেলে থাকবেন সেইরকম হোটেলের নাম চাইবে, সেখানেও সেইম হোটেলের নাম, ঠিকানা, টেলিফোন দিন।

ভিসা ডিটেলস
আপনি কি ভিসা চাচ্ছেন, কত মাসের জন্য, এন্ট্রি সংখ্যা ও  সবচেয়ে গুরত্বপুর্ন হল পোর্ট সিলেকশন অংশ।

আপনাকে একেবারে প্রথম দিকেই ‘Visa Type’ সিলেক্ট করতে হবে। আপনি যেহেতু টুরিস্ট হিসেবে যাচ্ছেন সেহেতু ‘TOURIST VISA’ সিলেক্ট করুন।

কত মাসের ভিসা চাচ্ছেন এখানে আপনি ৩, ৬, ১২ আপনার যেটা দরকার সেটা দিতে পারেন। তবে ১২ দেয়াই ভাল, কেননা ওরা চাইলে ১২ বদলে ৬ মাস দিতে পারে। কিন্তু আপনি ৩ মাস চাইলে তো আর ওরা ৬ মাস দিবে না।

No of Entries অপশনে আপনি কতবার ভারতে প্রবেশ করতে চান সেটা দিবেন। আপনি SINGLE অথবা MULTIPLE যেতা দরকার দিতে পারেন। তবে ভিসার মেয়াদের মাঝে একাধিকবার যেতে চাইলে MULTIPLE দিবেন।

সবচেয়ে গুরত্বপুর্ন অংশ হল পোর্ট সিলেকশন। মানে যাওয়া আসার জন্য কোন পোর্ট সিলেক্ট করবেন। যেমন ধরুন আমাদের দেশে ৩ টা পোর্ট খুবই জনপ্রিয়। হরিদাসপুর/বেনাপোল, ডাউকি/তামাবিল ও চ্যাংড়াবান্ধা/বুড়িমারি। যারা শিলং যেতে চান তারা BY ROAD DAWKI, যারা দার্জিলিং যেতে চান তারা Changrabandha ও যারা কলকাতা বা কলকাতা হয়ে ইন্ডিয়ার অন্য শহর যাবেন তারা Haridaspur সিলেক্ট করবেন। এখন আরেকটি বিষয় মাথায় রাখবেন যে আপনার যেকোন পোর্টের ইন্ডিয়ার ভিসা থাকলেই আপনি ইন্ডিয়ার যেকোন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে, Haridaspur দিয়ে গাড়িতে ও Gede দিয়ে রেলে যেতে পারবেন। তাই আমার মতে আপনি প্রিফারেন্সের ভিত্তিতে অন্য যেকোন পোর্ট সিলেক্ট করতে পারেন কেননা আপনি Haridaspur by Road, Gede by Rail and AIR তো ফ্রি পাচ্ছেনই এর সাথে।

সবার শেষে ছবি আপলোড করে ফর্মটি প্রিন্ট করে নিন।

এখন এক কপি ২x২ ইঞ্চি মাপের ওই একই ছবির একটি ছবি আঠা দিয়ে লাগিয়ে নিন।

এখন ছবির ঠিক নিচের বক্সে ও ২য় পেইজের নিচে ডান দিকে পাসপোর্টের মত স্বাক্ষর করুন।

ব্যাস হয়ে গেল ফর্ম রেডি।

ভারতীয় ভিসা করতে মনে রাখবেন
ফর্ম পুরন শুরু করার পর ওরা একটা Temporary ID দিবে। এইটা সেইভ করে রাখুন। কারন কোন কারণে সার্ভারে সমস্যা থাকলে বা আপনি বাকি অংশ পরে পুরন করতে চাইলে এই লিংকে গিয়ে ‘Complete Partially Filled
Form’ এ ক্লিক করে Temporary ID ও ক্যাপচা দিয়ে আবার আগের জায়গা থেকে শুরু করতে পারেবেন।
ফর্ম সম্পুর্ন পুরন হয়ে গেলে আর নিজে এডিট করতে পারবেন না। তবে আবেদন কেন্দ্রে গেলে ওরা ঠিক করে দিবে, কিন্তু ফি ৩০০ টাকা।
ফর্ম পুরন করার পর ৮ দিনের মাঝে জমা দিতে হবে, না হলে এক্সপায়ার হয়ে যাবে।
জরুরি তথ্যগুলো সতর্কতার সাথে, পাসপোর্ট দেখে পুরন করুন। যেমন নামের বানান, জন্ম তারিখ, পাসপোর্ট নাম্বার ও অন্যান্য তথ্য।

ইন্ডিয়ান / ভারতীয় ভিসা করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংগ্রহ

স্মার্ট কার্ড/এনআইডি অথবা জন্ম সনদের ফটোকপি
এর যেকোন একটা হলেই হবে। এইগুলা দ্বারা দেখা হয় যে আপনি এই দেশের নাগরিক, এছাড়া স্থায়ী ঠিকানা প্রমানের জন্যও এটা দরকার। ফর্মে স্থায়ী ঠিকানা এ অনুযায়ী পুরন করবেন।

ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি
গত তিনমাসের, Paid অথবা Unpaid বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা টেলিফোন বিলের ফটোকপি। এর সাথে শুধুমাত্র আপনার বর্তমান ঠিকানার মিল থাকতে হবে। হুবুহু, মিল থাকতে হবে এমন হয়, তবে ঝামেলা এড়াতে এটা দেখেই ফর্ম পুরন করা উচিৎ।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা ডলার এনডোর্সমেন্ট
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণের জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা ডলার এনডোর্সমেন্ট লাগবে।

ব্যাংক স্টেটমেন্টঃ  একাউন্টে কমপক্ষে ২০,০০০ টাকা রেখে গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিন। অনলাইন কপি হলে হবে না, ব্যংকে সিল ও স্বাক্ষর থাকতে হবে। আর ভিসা আবেদন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যালেন্স বজায় রাখুন। ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর ফটোকপি না দিয়ে, মেইন কপিই দিয়ে দিতে পারেন। আপনার নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট না থাকলে আপনি আপনার বাবা-মায়ের ব্যাংক স্টেটমেন্টও ব্যাবহার করতে পারেন।

ডলার এনডোর্সমেন্টঃ এখন থেকে মানি এক্সচেঞ্জ এর ডলার এনডোর্সমেন্ট IVAC গ্রহণ করে না। তাই আপনাকে কোন তফসিলি ব্যাংক মানে সরকারি, বেসরকারি যেকোন ব্যাংক থেকে ১৫০ ডলার এনডোর্স করতে হবে। তবে আপনি ২০০ করাতে পারেন। আর অবশ্যই এনডোর্সমেন্ট এর পেপার এর কপি জমা দিতে হবে, শুধু পাসপোর্টে এনডোর্স করালে হবে না। এনডোর্সমেন্ট এর পেপার বর্ডারে লাগতে পারে তাই কপি বা মেইন কপিি সংরক্ষণ করুন।

ক্রেডিট কার্ডঃ  আপনার যদি আন্তর্জাতিক ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড থাকে তাহলে, এর  জন্যও ব্যাংক থেকে এনডোর্সমেন্টের কপি নিয়ে জমা দিতে হবে। মেইন কপি সাথে রাখুন। ওরা সম্ভবত এটাকে yearly endorsement বলে।

পেশার প্রমাণপত্র
আপনি ছাত্র হলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড বা বেতনের রশিদ এর ফটোকপি।

চাকুরীজীবী হলে NOC (No Objection Certificate)

আর ব্যাবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্সের কপি দিবেন।

ফ্রিল্যান্সার হলে যে প্লাটফর্মে কাজ করেন সেখান থেকে কিছু দিতে পারেন। যেমন ধরুন প্রোফাইলের প্রিন্ট, আর্নিং হিস্টোরি। আর যারা Upwork এর কাজ করেন তারা ‘Certificate of Earnings’ দিতে পারেন। যেকোন দেশের ভিসা আবেদনে ইহা ওষুধের মত কাজ করে।  ইন্ডিয়ান ভিসা ফর্মে পেশা হিসেবে Freelancer অপশন আছে।

অন্যান্য
আর অন্য কোন কাগজ যদি দিতে চান তাহলে আপনি দিতে পারেন। তবে আবশ্যিক কিছু না।

ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করা
কেন্দ্রভেদে ভিসা ফি ৬০০/৭০০ হয়ে থাকে। আপনি কোন কেন্দ্রে আবেদন জমা দিবেন সেই অনুযায়ী ফি দেখে নিন IVAC এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে।  ইন্ডিয়ান ভিসা আপনি দুইভাবে জমা দিতে পারেন।

আপনি নিজে
এজেন্ট দ্বারা

নিজে নিজে
ইন্ডিয়ান ভিসা ফি জমা দেয়া এখন খুবই সহজ। আপনি নিজে ঘরে বসে ইন্ডিয়ান ভিসা ফি জমা দিতে পারেন। এর জন্য এই লিংকেগিয়ে বিস্তারিত পুরন করে বিভিন্ন পেমেন্ট অপশনের যেকোন একটা দিয়ে পে করতে পারবেন। পেমেন্ট অপশন গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিকাশ, রকেট, DBBL Nexus, দেশি বিদেশি ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ইত্যাদি।

এজেন্ট দ্বারা
এখন আপনি যদি নিজে ফি দিতে না চান, তাহলে ভিসা আবেদন কেন্দ্রের আশেপাশে অনেক দোকান পাবেন যারা ফি জমা দিয়ে দেয়। ৬০০ টাকার ফি IVAC চার্জসহ ৬১৮ নেয়। আর এজেন্টরা ৬৫০ থেকে ৭০০ বা এর বেশিও নিতে পারে।

যেভাবেই পেমেন্ট দিন না কেন আপনার ফোন নাম্বারে একটা মেসেজ আসবে। কোন প্রিন্ট আউট বা মেসেজ দেখানোর দরকার পরে না, যদি না পেমেন্ট নিয়ে কোন সমস্যা হয়। আপনি শুধু নিজে একবার এই লিংক থেকে চেক করে নিবেনন যে আপনার আবেদনের ফি সঠিকভাবে জমা পড়েছে কিনা। লিংকে ক্লিক করার পর উপরে ডান দিকে ‘CHECK PAYMENT STATUS’ এ ক্লিক করে আপনার WEB FILE NUMBER, Passport No আর ক্যপাচা পুরন করে দেখে নিন আপডেট। এখানে ঠিক দেখালে আর কিছু কোন চিন্তা নেই। এখন জমা দিতে চলে যান।

ভিসা আবেদন জমা দেয়া
ভিসা ফি জমা দিতে এখন যমুনা ফিউচার পার্কে গেলেই হলে। একটু বেড়িয়ে বা কেনাকাটা করেও আসতে পারবেন।

সংগ্রহ করা
আপনি ভিসা আবেদন জমা দেয়ার সময় আপনাকে একটি প্রাপ্তি রশিদ দেয়া হবে যাতে আপনার নাম, পাসপোর্ট নম্বর, Web File No, ভিসা আবেদন ফি ইত্যাদিসহ একটা তারিখ দেয়া থাকবে। তারিখটি এভাবে দেয়া থাকে  ‘Delivery on or after: 2017-12-17’. এর মানে আপনি উল্লিখিত তারিখ বা এর পর যেকোনদিন নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে পারবেন। তবে সব সময় যে রশিদে উল্লিখিত সময়েই পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়া হবে এমন কিন্তু নয়। তাই আপনি আইভ্যাকে যাওয়ার আগে চেক করে নিন যে আপনার আবেদনের কি অবস্থা। সাধারণত ওরা আগেই এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয় যে আপনার পাসপোর্ট ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত। এছাড়া আপনি আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে আপনার ভিসার আবেদন ট্র্যাক করতে পারেন। এজন্য আপনাকে যেতে হবে এই ঠিকানায়, এরপর আপনি যেই সেন্টারে আপনার আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন তা সিলেক্ট করুন। 

 

তথ্যসূত্র: বিভিন্ন ওয়েব সাইট