“রুটিন” জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
Share with your friends
  •  
  •  
  •   
  •  

জীবনটাকে নিজের ইচ্ছে মতো করে পরিচালনা করতে চান? তাহলে আপনার প্রতিদিনের কার্যকলাপ সমূহকে একটি নির্দিষ্ট রুটিনের মধ্যে আবদ্ধ করুন। ‘রুটিন’ আপনার জীবনকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

ছোট থেকেই ‘রুটিন’ অনুযায়ী চলার চেষ্টা করতাম। কিন্তু রুটিন অনুযায়ী নিজেকে পরিচালনা করতে পারতাম না। দু’দিন পর পর রুটিন চেঞ্জ করতাম। আবারও বেঘাত ঘটতো, ভালো লাগতো না। কিছুদিন পর আবারও চেঞ্জ করতাম তারপরও নিজেকে কখনও রুটিনের আওতায় আনতে পারি নাই। আর এজন্যই বুঝি আজ- যে বয়সে ভার্সিটির ক্যাম্পাসে ব্যস্ততম সময় কাটানোর কথা সেখানে পরের অধীনে কামলা (চাকরি) দিতে হচ্ছে যদিও পড়ালেখা কনটিনিউ করতেছি তবে এটাকে পড়ালেখা বলে না; শুধুই একটা সার্টিফিকেট অর্জনের পায়তারা আরকি। যদিও এখন জীবনটাকে একটা রুটিনের মধ্যে মোটামুটি ভাবে আবদ্ধ করতে পেরেছি।

 

জীবনকে রুটিনের মধ্যে আবদ্ধ করা বলতে- আপনি কতো ঘন্টা ঘুমাবেন, কতোক্ষণ পড়ার টেবিলে সময় দিবেন, কতোক্ষণ বন্ধুদের সাথে আড্ডা/খেলাধুলা করবেন, কতোক্ষণ অনলাইনে সময় ব্যয় করবেন, কতোক্ষণ নিজের পরিবারকে সময় দিবেন, কতোক্ষণ আপনার যাবতীয় কাজ সমূহ সম্পাদন করবেন, কোন কোন সময়ে কোন কাজটি করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন? এসব কিছুর সম্বনয়ে একটি ছক তৈরি করবেন। এবং যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন সেই রুটিন অনুযায়ী জীবনটাকে পরিচালনা করার। একটা সময় তা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। তাহলেই দেখবেন আপনার জীবনটাকে আপনার কাছে ছন্দময় হয়ে যাবে। যে কোনো কাজ খুব সহজেই স্বাচ্ছন্দ্যের সহীত সম্পন্ন করতে পারবেন।

 

আর হ্যা, ভুলেও একই সাথে দুই বাবা ততোধিক কাজ করতে যাবেন না। একই সাথে বলতে- এই ধরুন আপনি এখন পড়তে বসেছেন। পাশে আপনার মোবাইলটা ডাটা অন করে রেখে দিয়েছেন। দশ মিনিট পড়ে দু’মিনিট ফোনটা হাতে নিয়ে ম্যাসেঞ্জার/নোটিফিকেশন চেক করতেছেন। ফোনটা রেখে আবার দশ মিনিট পড়ে আবারও ফোনটা হাতে নিয়ে টিপাটিপি শুরু করে দিলেন। আমি জানি, এ বাজে অভ্যাসটা বর্তমান জেনারেশনের অধিকাংশ ছেলে-মেয়েদের মধ্যেই বিদ্যমান আছে; এমনকি আমারও। আমি হলফ করে বলতে পারি, আপনি যে পড়াটা এক ঘন্টায় কমপ্লিট করতে পারতেন ঠিক সেই পড়াটাই আপনি তিন ঘন্টাতেও কমপ্লিট করতে পারবেন না। এমনকি তিন ঘন্টায় কমপ্লিট করার পরও তা আপনার মস্তিষ্কে বেশি সময় ধারন করতে পারবেন না।

 

তাই যখন পড়তে বসবেন না বা অন্য কোনো কাজ করবেন কখন অবশ্যই ফোন অথবা অন্য আরেকটি কোনো কাজের প্রতি মন দিবেন না। দরকার হলে একাধারে তিন ঘন্টা পড়ে এক ঘন্টা মোবাইল টিপুন। মোবাইল টেপা শেষ হলে মোবাইলের ডাটা অফ করে দূরে সরিয়ে আবারও পড়া/কাজে মন দিন। তাহলে সত্যিই খুব সহজে যেকোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন এবং তা আনন্দের সহীত করতে পারবেন।

নিজের জীবনটাকে নিজের ইচ্ছাতেই গড়তে হবে। কেউ এসে গড়ে দিয়ে যাবে না। তবে হ্যা, সবসময় অবশ্যই ভালো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পথ প্রদর্শকদের সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা করবেন। সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও হৃদয়ের গহীন হতে অফুরন্ত ভালবাসা।