জীবন ও প্রকৃতি – জীবনের ইতিগল্প এবং সুস্থ সুন্দর জীবনের জন্য প্রকৃতির গুরত্ব
বিষন্নতা
Share with your friends
  •  
  •  
  •   
  •  

প্রানের তাগিদে ছুটে চলাই জীবন। জীবনের অনেক সংজ্ঞা রয়েছে, যা লিখতে গেলে হয়তো অনেক সময় লেগে যাবে।

জীবন-

জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনি কি করতে পেরেছেন বা অর্জন করেছেন সেটিই মূল কথা। কারন আপনি বেচে থাকা অবস্থায় মানুষ যতবার আপনার কথা বলবে তার চেয়ে ও বেশি বলবে আপনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর। আপনি ভালো ছিলেন না খারাপ ছিলেন সব কিছুর চূড়ান্ত ফলাফল বের হবে একসাথে। আমরা প্রায় সবাই প্রতিদিন প্রতিটি মূহুর্তে নিজেদের সাথে লড়াই করে যাই জীবন নামক যুদ্ধের মাঠে জিতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু কয়জনই বা শেষ পর্যন্ত নিজেকে স্রোতের মাঝে আটকে রাখতে পারে?

শুধু মাত্র অল্প কয়েকজন মানুষই নিজেদেরকে সঠিক জায়গায় নিয়ে দাঁড়াতে পারে, আর বাকিরা শুন্য হাত আর শুন্যতা নিয়ে স্রোতের সাথে ভেসে যায়। যারা জিতে যায় তারা তো তাদের কর্মেই বেচে থাকে মানুষের মনে। জিতে যাওয়া মানুষ গুলোর মধ্যে ২ ধরনের মানুষ রয়েছে। আর এই ২ ধরনের মানুষ গুলোই মৃত্যুর আগে এবং পরে মানুষের মনে স্থান পায়। যারা ভালো কাজ করে জিতে যায় তাদের কথা পৃথিবীর আলো বাতাসের মাঝে মিশে যায়, আর যারা অপকর্মের মধ্যে দিয়ে জিতে যায় তাদেরকে ও মানুষ মনে রাখে শুধু মাত্র তাদের মতো অন্য কিছু মানুষ কে গালি দেয়ার জন্য।

আপনি জীবনে কিছু অর্জন করতে হলে আপনাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে, আর আপনাকে এতোটাই পরিশ্রম করতে হবে যেন প্রকৃতি ও আপনার কথা মনে রাখে। আপনার কথা যেন বাতাসের সাথে মিশে যায়, পায়ের চিহ্ন যেন পথের দূলোয় মিশে যায়। আর সে জন্য আপনাকে নিজের মধ্যে সুন্দর ব্যক্তিত্ববোধ তৈরি করে নিতে হবে। আপনি যত কিছুই করেন না কেন আপনার ব্যবহার যদি সুন্দর ও শালীন না হয় তাহলে আপনার এবং আপনার জীবনের আর কোন মূল্য থাকবে না। আর নিজের মাঝে এই জিনিসগুলো কে খুব শক্ত করে তৈরি করার জন্য আপনাকে প্রচুর পরিমান ভাবতে হবে , এবং সময় নিতে হবে যে আমার কি করা উচিৎ, আর কি করা উচিৎ নয়!

আপনার নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত এবং ভার দুটোই কিন্তু আপনাকে বহন করতে হবে, সুতারাং যা ই করবেন চিন্তা ভাবনা করেই করতে হবে। অনেক সময় আপনার অদ্ভুত সব চিন্তা ভাবনা অন্যদের হাঁসির কারন হয়ে দাঁড়াবে, কিন্তু আপনি থেমে যাবেন কেন? তারা হাঁসুক আপনি আপনার মতো করে এগিয়ে যান, সফলতা একদিন আসবেই।

আপনি যদি আগেই চিন্তা করেন যে আমাকে দিয়ে এই কাজটি হবে না তাহলে মনে করবেন আপনি প্রথম পরীক্ষায় ঝরে পড়েছেন। আপনাকে সব সময় পজেটিভ চিন্তা ভাবনা করতে হবে। তাকাতে হবে ভালো মানুষ গুলোর দিকে, যারা ভালো ভালো কিছু করে সবার হৃদয়ে স্থান পেয়েছেন, পৃথিবীর বুকে রেখে গেছেন তাদের কর্মের ইতিহাস।

চলার পথে খারাপ কিছু জিনিস আপনার চোখে পড়বেই, আর সাথে সাথে ভাবতে হবে যে কাজটা আমার জন্য নয়। আপনাকে তার বিপরীত কিছু নিয়ে ভাবতে হবে। চিন্তা শক্তি আর ইচ্ছা শক্তি দুটোই প্রায় এক। কারন আপনি যখন ভালোভাবে চিন্তা করতে শিখবেন তখন আপনার ইচ্ছে হবে যত কিছুই হোক আমাকে এই কাজটা শেষ করতে হবে।

আর মনের মধ্যে যখন প্রবল ইচ্ছে তৈরি হয়ে যাবে কাজটির প্রতি তখন দেখবেন কাজটি অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে আপনার জন্য। এক সময় দেখবেন আপনি সেখানে সফল হয়েছেন। আর প্রথম বার হেরে গেলে ও কোন সমস্যা নেই, আপনি আবার ভাবতে থাকুন, আবার আপনার ইচ্ছে গুলো প্রয়োগ করে দেখুন। আপনি সঠিক সময়ে সঠিক একটা সমাধান পাবেন আর এটাই বাস্তব জীবন।

প্রথম বার হেরে গেলেন তাই বলে নিজেকে ঠান্ডা জায়গায় গেঁথে রাখবেন, তাহলে মনে করবেন সত্যিই আপনি জীবনের কাছে পরাজিত। প্রতিদিনের সব কাজের মাঝে ছোট একটা সময় বের করুন বই পড়ার জন্য। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেটা ২৪ মিনিট হলে ও সমস্যা নেই, যখন অভ্যাস হয়ে যাবে তখন দেখবেন এমনিতেই বই পড়ার জন্য সময় বের হয়ে গেছে।

মাঝে মাঝে নিজেকে একটু বিনোদন দেয়ার চেষ্টা করুন, এতে করে আপনি অনেকটা ফ্রেশ থাকবেন আর আপনার যে কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। প্রকৃতি আর বিস্ময়কর সব আবিস্কারের পেছনে ও কিছু সময় ব্যায় করুন। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আপনি যদি প্রকৃতির সাথে ভালোভাবে মিশতে না পারেন তাহলে আপনি সব কাজেই ব্যার্থ হবেন। আর প্রকৃতির সাথে মিলে মিশেই আপনাকে জীবন পার করতে হবে। কখনো রোদে পুড়ে কখনো বৃষ্টিতে বীজে, আবার কখনো বা একা একা দিন রাত পরিশ্রম করে।! জীবনে পূর্নতা লাভের জন্য আপনাকে শুধু লাভের পেছনে দৌড়ালেই হবেনা, বরং লাভ লস দুটোর পেছনেই দৌড়াতে হবে। শুধু লাভের কথা চিন্তা করতে থাকলে আপনার আর কিছুই থাকবে না।

কিন্তু লাভ লস দুটো মিলিয়ে যখন চিন্তা করবেন তখন আপনার কি পরিমান লস হলো সেটা থেকেই লাভ টা এক সময় বেরিয়ে আসবে। বর্তমান পৃথিবীতে খুব কম মানুষই রয়েছে যারা আপনাকে ভালো কাজে উৎসাহ দেবে, কিন্তু দেখবেন খারাপ কাজে উৎসাহ দেয়ার মতো মানুষের অভাব নাই। যারা ভালো কাজে উৎসাহ দেবে তারা আপনাকে সর্বোচ্ছ ৩ বার বা ৫ বার ই বলবে কাজটিতে লেগে থাকার জন্য।  এর পর আপনার পজেটিভ প্রিতক্রিয়া না পেলে আর বলবে না। আর যারা খারাপ কাজে উৎসাহ বেশি দেয়, তারা আপনাকে ঐ কাজটি শেষ না করা পর্যন্ত ১ জনের জায়গায় ১০ জন মিলে উৎসাহ দেবে। আর যখন আপনি কাজটি শেষ করবেন আবার তারাই এটা নিয়ে হাসাহাসি করবে।

সুতারাং প্রথমত নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন যে কোন ক্ষেত্রে, আর ভালো ব্যাক্তিত্য কে প্রাধান্য দিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

X
%d bloggers like this: