বই পড়ার স্মৃতি ও নিজাম আঙ্কেলের ভাতিজা ।

Share with your friends
  •  
  •  
  •   
  •  

বই পড়া নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি আছে যা বলে হয়ত শেষ করা যাবে না। আজ তেমনই একটি ঘটনা মনে পড়ায় তা লিখতে ইচ্ছা করলো। কয়েক বছর আগে আমি একটি জন্মদিন এর অনুষ্ঠান এ গিয়েছি, দেখলাম তেমন কাউকে চিনি না। তখন চোখ গেল বুক সেলফ এ রাখা বই এর উপর।দেখেই একটি বই নিয়ে পড়া শুরু করলাম। গভীর মনযোগ দিয়ে বই পড়ছি

 

এমন সময় একটি ছেলে এসে বলল, এক্সকিউজ মি, আপনার নাম মনিকা না? আমি বই থেকে চোখ না সরিয়েই বললাম, জি আমার নাম মনিকা। ছেলেটি আবার প্রশ্ন করল, আমাকে চিনতে পেরেছেন?
আমি: কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে বলিলাম জি না চিনতে পারি নাই। বলেই আবার বই এ মনযোগ দিলাম ভাবলাম এবার বুঝি ছেলেটি চলে যাবে।কিন্তু আমাকে ভূল প্রমান করে সে আবার জিজ্ঞেস করল, আপনি নিজাম আংকেল কে চিনেন?
আমি: কোন নিজাম?
ছেলে: আপনি কয়জন নিজাম কে চিনেন?
আমি: ২ জন কে চিনি এর মধ্যে ১ জন আমার কাকা হয়।আপনি কি ওনার কথা বলছেন?
ছেলে: জি আমি ওনার কথা বলছি। আমি ওনার সাথে আপনাদের বাসায় একবার গিয়েছিলাম।এবার চিনতে পেরেছেন?

আমি: না, আসলে কমন চেহারা তো তাই মনে করতে পারছি না।

ছেলে(রেগে গিয়ে): কি?? আমার চেহারা কমন?? আর আপনার চেহারা খুব আনকমন তাই না?
আমি: তাই তো মনে হচ্ছে। সেই জন্যই আমাকে আপনি দেখেই চিনে ফেলেছেন। শুধু তাই না আমার নাম ও আপনার মনে আছে।
ছেলে: আরো রেগে গিয়ে আমার হাতে থাকা বইটির দিকে তাকিয়ে বলল, আপনি কি হুমায়ুন আহমেদ এর বই খুব বেশী পড়েন?
আমি:খুব বেশী পড়ি না তবে পড়ি।
ছেলে: তার মানে এই না যে আপনি সবাইকে এভাবে অপমান করবেন এবং সবকিছু নিয়ে রসিকতা করবেন।

আমি: আমি এমন কিছুই করি নাই। আপনি মাথা গরম না করে যে কোন একটি বই নিয়ে পড়েন। আপনার ভাল লাগবে।
ছেলে: বই পড়ার মত ফালতু সময় আমার নেই।
আমি: হুম, শুধু মাত্র মেয়েদের সাথে সেধে সেধে কথা বলার ফালতু সময় আপনার আছে….!
এরপর কি হল তা আর না বলি। বাকিটা ইতিহাস

আমি যখন ছেলেটিকে বললাম বই পড়ার মত ফালতু সময় আপনার নেই কিন্তু মেয়েদের সাথে সেধে সেধে কথা বলার মত সময় আপনার ঠিকই আছে তখন ছেলেটি রেগে মেগে আমাকে বলল, হুমায়ুন আহমেদ এর মত ফাউল লেখকের বই হাতে নিয়ে এত ভাব নেয়ার কিছু নাই বুঝলেন?
আমি: ও তাই? আপনি কি ওনার কোন বই পড়েছেন?
ছেলে: না। তবে তার লিখা নাটকগুলো দেখি। ভাঁড়ামি ছাড়া তার নাটকে আর কিছুই নাই।
আমি: আপনি সেই নাটকগুলো দেখে নিশ্চয়ই অনেক হেসেছেন?
ছেলে: হাসি ছাড়া আর কি বা করার আছে?
আমি: শুনুন, মানুষ কে কাঁদানো অনেক সহজ তবে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো মানুষ কে আনন্দ দেয়া বা হাসানো যা ওনার মত বড় মাপের লেখকের পক্ষেই সম্ভব। তাই এমন গুনী লেখকের ব্যাপারে এমন বাজে মন্তব্য আর করবেন না। আশা করি আপনি আমার কথাগুলো বুঝতে পেরেছেন।
ছেলে: না বুঝি নাই। আপনি কি মনে করেন সব আপনি একাই বুঝেন?
আমি: আপনি আমার যথেষ্ট সময় নষ্ট করেছেন শুধু তাই না আমার যথেষ্ট এনার্জিও খরচ হয়েছে আর কথা বলার এনার্জি নাই।
ছেলে: রাগে গজ গজ করতে করতে চলে গেল।
আমি মনে মনে খুশী হয়ে আবার বই পড়তে লাগলাম।একটু পর যখন খাবার দিচ্ছিল তখন দেখি ওই ফাযিল ছেলেটা একটা ডিশে আমার জন্য কতগুলো বই এনে বলল, নেন সব বই গুলো বসে বসে পড়েন তাহলেই আপনার পেট ভরে যাবে আর কিছুই খেতে হবে না বলেই বিশ্রী দাঁতগুলো বের করে হাসছিল।আমিও কম যাই না বললাম এত কম বইয়ে আমার কিসসু হবে না আরো বই আনেন।
অত:পর সে পলায়ন করিল এবং আমার গল্প ফুরালো….!

The following two tabs change content below.