UNIFORM, GIRLFRIEND and BOXING
UNIFORM, GIRLFRIEND and BOXING
Share with your friends
  •  
  •  
  •   
  •  

অদ্ভুত ছিল কিন্তু সহজ ছিল না, হুট করে গার্লফ্রেন্ড এর ছেড়ে চলে যাওয়া, অসম্ভব ভালবাসতো তাকে –

এত সহজে ভোলা যাচ্ছিল না, কোন কিছুই ভাল লাগত না। পড়াশোনা সব সিকেয় উঠলো।
আই এস এস বি পার হয়ে কোর্সে যাওয়া ছেলে টা র তখনো বি এম এ র ট্রেনিং শুরু হয়নি।
ছুটিতে বাসায়। এর মধ্যে প্রেয়সি র চলে যাওয়া। কিছু ভাল লাগেনা, কিচ্ছুনা। সিদ্ধান্ত নিল -ধুর, এসব কার জন্য করব, কিসের জন্য…..
যাব না কোর্সে করব না, জীবন থেকে সব রঙ মনে হয় নিয়ে চলে গিয়েছে। যাবার কারন টাও অদ্ভুত। সে কথা এখানে আর না বলি।

এর মধ্যে ডিপ্রেশন পেয়ে বসেছে। বেশ ভাল মতই।ফেসবুকে এ একটা গ্রুপে কিছু একটা পোস্ট করা হল যেটা হতাশা আর বিষাদে ভরা।
কমেন্ট আসে।
সেখান থেকে মেসেজ রিকুয়েস্ট এও নক আসে। কিছু ভালবাসায় ভরা,কেউ বা আবার ক্ষত সারিয়ে দিতে চায়। কিন্তু যে মনের এক বিশাল জায়গা নিয়ে আছে তাকে কি চাইলেই রিপ্লেস করা সম্ভব?
এর মধ্যে মেসেজ রিকুয়েস্ট এ স্নেহ মমতা এফেকশন ভরা একটা মেসেজ। কোন বড় আপু সম্ভবত।
হ্যা এরই কমতি ছিল ত। আচ্ছা উনার কাছে একটু শেয়ার করেই দেখি না! আপু র সাথে ফোনে সব শেয়ার করা হল।
উনি বিশ্বাস করালেন, লাইফে র পার্ট সে, হোল লাইফ না।
প্রথম দিন আপু কিছু কাজ দিলেন। একটু উইয়ার্ড কাজ। বাসার সামনে গাছে দোলনা টাঙাতে। আজব লাগল- দোলনা!!! বাসার সবাই হাসবে।
আপু দেখি নাছোড়বান্দা।
অর্ধেক করতে করতেই দিন পেরিয়ে গেল। এভাবে একেক দিন একেক কাজ।
এর মধ্যে কোর্সে যাবার সময় আসে। আপু র এক প্রকার কড়া নজরদারিতে যাওয়া হল।
শুরু হল নতুন করে যাত্রা, এর মধ্যে ও ঝামেলা পিছু ছাড়েনা।

আবার আপু!

প্রতিদিন এর ইন্সপারেশন এ দিন যাচ্ছে।

একটা কথা মাথায় ঢুকে গেছে -লাইফ টা সাইকেল এর চাকার মত। কখনো উপরে কখনো নিচের দিকে কিন্তু সব সময়েই মুভিং, জীবন থেমে থাকেনা। খুব খারাপ খুব ভাল সময়-সব ই আসে। কিন্তু থামা যাবেনা।

খুব নেশা ছিল বক্সিং এর কিন্তু গার্ল্ফ্রেন্ড পছন্দ করত না তাই ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। কোর্সে থাকার সময় লাস্ট বারের মত কম্পিটিশন। আপু কে বলা হলে আবার শুরু হলো অনুপ্রেরণা। কথা গুলি তে কিছু ছিল -যেটা তীরের মত মাথায় গেঁথে গেল।

পাচ বারের ব্যাটালিয়ন চ্যাম্পিয়ন এর সাথে রিং এ সেকেন্ড রাউন্ড এ নাক ফেটে যায়। খেলা চালিয়ে যেতে পারবে কিনা এ শংকায় রেফারী জিজ্ঞেস করলে উত্তর আসে, “আমি হারিনি-শিখেছি না হয় জিতেছি।
দুবার শিখলাম।
আমি খেলে যাব। ”
লাস্ট রাউন্ড এ শক্ত অপোনেন্ট কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবার পথ টা এত সহজ ছিল না।

স্বপ্ন এখনো বাকি। এগিয়ে চলেছে স্বপ্নের দিকে –
সেই স্বপ্ন যেদিন সব হতাশা বিষাদ আর হারানোর কষ্ট কে তালা মেরে রেখে কমিশনড র‍্যাংক টা বুকে ঝুলিয়ে বাবা মা আর সেই আপু র মুখে হাসি ফোটানোর 🙂

এ এক জিতে যাবার গল্প

ডিপ্রেশন কে হারিয়ে সুন্দর জীবনের গল্প। 🙂