The Queen v Dudley and Stephens Case-briefs in Bangla
Share with your friends
  •  
  •  
  •   
  •  

একটি হ্রদয় ভেঙ্গে দেয়া ঘটনা ও তার বিচার

19 টণ ওজনের ইংরেজ ইয়ট মেগনানেট কেনেন অস্ট্রেলিয়ান আইনজীবী জন হেনরি উইন যা 1867 সালে নির্মিত 52-ফুটের একটি ক্রুজার ছিল। এটি নদীতে বা উপকূলবর্তী এলাকায় চলারমত ইয়ট ছিল যা জন হেনরি অস্ট্রেলিয়াতে চালিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন যা আসলে দীর্ঘ  সমুদ্র ভ্রমণের জন্য তৈরিই করা হয়নি।

অবশেষে তিনি 1884 সালের 18 ই মে সাউদাম্পটন থেকে সিডনিতে ইয়টটি নিয়ে যাত্রা করার জন্য চার্লি কে দায়িত্ব দেন, এবং অন্য জাহাজে চেপে অস্ট্রেলিয়া রওনা দেন  সে বাদবাকি লোক ঠিক করে, নাবিক ছিল চার্লি টম ডুডলি, অধিনায়কঃ এডউইন স্টিফেনস; এডমুন্ড ব্রুকস; এবং রিচার্ড পার্কার, কেবিন বয় পার্কার অনাথ ১৭ বছর বয়সী, এবং অনভিজ্ঞ ও দুর্ভাগা ।

তারপর যা হবার তাই হল ৫ জুলাই কেপ অফ গুড হোপের কাছে ঝড়ে ডূবে গেল তারা সবাই ছোট জাহাজ পরিত্যাগ করে, তারা মাত্র ২ টিন শালগম আর নেভিগেশনাল টুল উদ্ধার করতে পারে সাথে কোন খাবার পানি নিতে পারে নি ।

পরের ২ সপ্তাহ কোন রকমে তারা বেচে ছিল, কচ্ছপ, বৃষ্টির পানি, ছোট মাছ, ইউরিন এইসব
পার্কার ছাড়া সবাই অভিজ্ঞ থাকার কারনে পার্কার একটা ভুল করে বসে সে 20 জুলাই লোনা পানি খেয়ে ফেলে এবং আস্তে আস্তে অসুস্থ হয়ে পড়ে । বাচার কোন আশা না দেখে ডাডলি ব্রুকস আর স্টিফেন কে প্রস্তাব দেয় , ২৩ বা ২৪ জুলাই আলাপ করে আমাদের কেউ একজন নিজেকে বিসর্জন দিয়ে অন্যদের বাচাতে , আর পার্কার যেহেতু মারাই যাবে তাই তাকে হত্যা করা হোক সবাই পানি খায় না অনেক দিন আর পার্কার এমনিই মারা যাবে তাই তার রক্ত পান করা হোক , পরে খাওয়া যাবে অন্য কিছু ( বুঝে নিন প্লিজ 

 ) ।

ব্রুক্স রিফিউজ করে সাথে সাথে এবং সকাল পর্যন্ত মুলতবি করতে বলে যদি সে ভাল হয় , ডাডলি সকালে পার্কার যায় যায় দেখে স্টীফেন ব্রুক্স কে বলে দেখ ও যদি মারা যায় রক্ত জমে যাবে, আমাদের কারো কাজে লাগবে না , দেহটাও ফেলে দিতে হবে ব্রুক্স, চুপচাপ থাকে , ডাডলি আর স্টীফেন তাদের দুর্বল শরীর নিয়ে অনেক সময় ধরে কাজ সেরে ফেলে,
কোমায় থাকা দুর্ভাগা পার্কারের আগে থেকেই কোন সাড়া না থাকায় সে কোন প্রতিবাদ করতে পারে নি । ওনেক সময় পরে পিপাসায় কাতর ব্রুক্স কে ওরা পিপাসা মেটাতে সাধে , ব্রুক্স ভাবে সেও যদি এইভাবে পার্কারের মত মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে তাহলে ওরাও একই কাজ করবে , না তাকে বেচে থাকতে হবে । বলে সেও রক্ত পান করে পিপাসা মেটায়

উপর ওয়ালার ইচ্ছায় ঘটনা ঘটার পরদিন বৃষ্টি নামে মাত্র ৫ দিন 29 July একটা জার্মান জাহাজ তাদের দেখতে পেয়ে তুলে নেয়, খুবসম্ভব পার্কারের মরদেহ সহ জাহাজে উঠেই সে জার্মান জাহাজের ক্যাপ্টেন কে বলে ডাডলি আর স্টিফেন সহ সবাইকে এরেস্ট করতে বলে কারন ওরা খুনি আর সেও তাদের সাথে ছিল , সে মারেনি কিন্তু খেয়েছে

6 September ফলমাউথে তাদের ইংলান্ড পূলিশ এর কাছে হস্তান্তর করা হয়
তাদের বিচার শুরু হয় ।

একটি অত্যন্ত পরিচিতি পাওয়া এই ট্রায়ালের পর চার্লি টম ডুডলি ও এডউইন স্টিফেনস কে এডমুন্ড ব্রুকস এর সাক্ষীর ভিত্তিতে রিচার্ড পার্কার কে খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার জন্য সুপারিশ করে, পরে  জনগনের ব্যাপক প্রতিক্রীয়ার পর উচ্চ আদালতে মামলার সুনানিতে সমস্ত অবস্থা বিবেচনা করে ডাডলি ও এডউইন স্টিফেনস কে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
আর একমাত্র সাক্ষী ব্রুক্স কে খালাস দেয়া হয়েছিল, ডাডলি ৬ মাসের সেই সাজাও মন থেকে মেনে নিতে পারে নি । 
 

ছবিতে রয়েছে পার্কারের টুম্বস্টোন আর যে ডিঙ্গিটাতে ভেসে ছিল ।

 https://www.facebook.com/groups/swapybooks/ আমাদের রিডার্স গ্রুপে নিচের প্রশ্ন গুলি করা হয়েছিল ।
 
আপনার মতে ডাডলি আর স্টীফেন কি দোষী ?
ভাবার আগে সমস্ত ফ্যাক্ট বিচার করুন
৩ জনের বিচারের রায়ে কি হতে পারে

কিছু  মেম্বার প্রায় ঘটনার ১৫০ বছর পরে বিবেক বুদ্ধি খাটিয়ে ফ্যাক্ট গুলি বিবেচনা করে যে উত্তর দিয়েছেন তা হুবহু তুলে ধরলাম

Kazi Nazia Ferdous আমি যা বুঝি তা হল নিজেকে বাচানো জরুরী তবে অন্য কে ধংস করে নয় .

Mohammad Nurul Islam Suman ডাডলি আর স্টীফেন অবশ্যই দোষী। তারা আরও বিকল্প চিন্তা করতে পারত।

Farjana Farju দুইবার পড়লাম। কাহিনী টা জটিল মনে হচ্ছে। একদিক থেকে বিচার করলে, ডাডলি ও স্টীফেন দুইজনই দায়ী। আবার, ডাডলি ও স্টীফেন যদি খুন না করতো, তাহলে তারাও মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিলো। তাই আমি করি, ক্ষমা করাই যুক্তিযুক্ত।

Shahin Akhter সব থেকে বড়ো ভুল জন হেনরি উইন এর ,যিনি জানতেন ক্রুজার টি চলাচলের অয্যোগ্য দীর্ঘ সমুদ্রে ,তার উপর তিনি নিয়েছেন অনবিজ্ঞ মানুষ |
নিজেরা বাঁচার জন্য অন্য মানুষ শেষ করা অনেক বড় অপরাধ |তাই আমার মনে হচ্ছে এদের সবাই অপরাধী |

Farhana Akter Poly আমি মনে করি তারা দোষী কারন নিজেদের বাঁচাতে এইভাবে আরেকজনকে হত্যা করা অনেক বড় অপরাধ..তারা নিজেরাও জানত না যে তারা হয়ত বেচে যাবে তাহলে পার্কারকে মেরে তার রক্ত পান করে কয়দিনই বা তারা বাচতে পারত যদি না ভাগ্যক্রমে তারা আল্লাহর রহমতে বেচে যেত..তাদের বোঝা উচিত ছিল হায়াত যদি থাকে তারা অবশ্যই বেচে থাকবে….

Shaila Akther বুঝতেছি না।একবার সবাইকে ইনোসেন্ট লাগছে আবার মনে হচ্ছে দোষী। তবে হেনরি উইনের বিচার হওয়া উচিত,ডুডলির ও বিচার হওয়া উচিত সে সমুদ্রে ভাসতে অযোগ্য ইয়টের ক্যাপ্টেন হলো কেন।।।

Sabina Yeasmin প্রথমত, নিজে বাচলে বাপের নাম, এইভাবে না খেয়ে থাকলে সবাই হিতাহিত জ্ঞানহীন হয়েই যাবে, তারপর ও ওরা যুক্তি দিয়ে কাজ করার কথা ভেবেছে, পার্কার মরার পথেই ছিল, যেকোনো সময় মারা যাবে, এইদিকে বাকি সবাই খাবার না পেয়ে মৃত্যুর দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তা নিশ্চিত নয়। ওদের কাছে তেমন কিছুই নেই যা দিয়ে পার্কার কে বাঁচানো যাবে। পিপাসায় নিজেরাই শক্তি হারিয়ে ফেলেছে সে হিসেবে পার্কারের রক্ত খেয়ে পিপাসা কিছুটা মিটানো যাবে, অন্তত কিছু সময়ের জন্য, হয়ত এর মধ্যে কিছু একটা পথ খুজে পাওয়া যাবে।
দ্বিতীয়ত নিজের ভাল করতে গিয়ে অন্যের খারাপ করা অন্যায় তার উপর কাউকে হত্যা করা রীতিমত চরম অন্যায়। হয়ত পার্কার বেচে যেত কোনোভাবে।

মোট কথা এইখানে কেউ দোষী বলে আমার মনে হচ্ছে না, যা করেছে সবকিছু পরিস্থিতির চাপে পড়ে করা হয়েছে।

Mahabuba Rizvy It’s quite mysterious. In a normal sense everybody is criminal. It’s so pathetic

Hassan Mohammad Alamin আমি মনে করি, ওরা অপরাধি। কিন্তু পরিস্থিতির শিকার। ঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তখন তাদের ছিলো না। তবুও ঘৃণ্য কাজটা করার জন্য তাদের নির্দিস্ট মেয়াদের সাজা হতে পারে। তার চেয়ে বেশী কিছু নয়। তবে এই ক্ষেত্রে হত্যার বিষয়টাকে মাথায় রেখে কঠোর শাস্তি হতে পারে। কিন্তু তা মৃত্যুদন্ড নয়। 

%d bloggers like this: