শৈশবের রেপুটেশন উদ্ধার
শৈশবের মজার সৃতি গল্প
Share with your friends
  •  
  •  
  •   
  •  

ক্লাস ফোর এর পরীক্ষা দিয়ে ফাইভে ঊটছি বন্ধুদের সবাই, বানরামির চুড়ান্ত চর্চা চলে তখন ।

স্কুলে উপস্থিত বেশি হবার জন্য + খেলাধুলায় প্রায় সব পুরুস্কার গুলি আমাদের থাকে , কিন্তু, বেশি নাম্বার, আচার আচরণ, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাগুলির ধারের কাছে যেতে পারি না, কোরআন তেলাওয়াত এ অন্যরা নিয়ে যায়, হামদ নাদ এ ভাল হয় নাই আগের বছর, আর মারামারির কেস তো আছেই, ক্লাস ফোরে এ পইড়া সিক্স, সেভেন এর পোলাপাইনের সাথে মারামারি করে রেপুটেশন তো আগেই নষ্ট করে ফেলসি। এখন যেই দেখে সেই জিগায় আরে তোমরা সেই পোলাপান না যারা খালি মারামারি কর । আগে এক বন্ধুর বাসায় সবাই গেলে আরামসে খানা পিনা করা যাইত , কিন্তু সব আঙ্কেল-আন্টি ভাবে আা্মরা তার ছেলের লগে মিসে তারে খারাপ করে ফেলসি, আগের মত খাতির যত্ন আর মিলে না, খানা পিনা তো দূরে থাক ঠিক মত কথাই বলে না ।

এই মহাযন্ত্রনা কাহাতক আর সহ্য করা যায় ।
সবাই মিলে ঠিক করলাম আস্তে আস্তে দুর্নাম ঘুচায় ফেলতে হবে । প্রথমে একসাথে ঘুরাঘুরি করা কমিয়ে দিলাম , সবার সাথে সালাম দিয়ে কথা বলতাম , নামায পড়া শুরু করলাম , এমনকি বিকাল বেলায় আমাদের চেয়ে ছোট ছোট পোলাপান এর খেয়াল রাখা শুরু করলাম ।

সামনে কোন এক প্রতিযোগিতায় , আমাদের ভিতর ২ জনকে তেলাওয়াত ও হামদ নাত এর জন্য রেডি করছি আমরা সবাই মিলে, মসজিদের ইমাম সাহেব কে ধরে উচ্চারন, টোন গুলি, বিশুদ্ধ করার সেকি মরণপণ চেস্টা। প্রতিযোগিতার দিন সবচেয়ে বেশি আশা ছিল যারে নিয়ে সেই কামাল সুরার মাঝখানে ভুল করে থেমে গেল সেই ক্লাস সেভেন এর পোলাপান এর চিৎকারে । অন্য বন্ধুরা মিলে ঠিক করার চেস্টা করছে, কামালরে পিটাইটে হবে, এত দিনের কষ্ট জলে গেল গা, তা আর করি নাই, নিজেদের ভিতর গ্যাঞ্জাম করলে বিপদ আছে, যারে দিয়ে ভরসা কম ছিল সেই ইমতিয়াজ তবুও ৩য় হয়ে ইজ্জত রক্ষে করেছে ।

কামাল দল পাকানোর চেস্টা করছে আবার ওই ছেলেদের সাথে আবার যুদ্ধ ঘোষণার, তার অভিযোগ তেলাওয়াত এর সময় ওরা হাসা না করলে সে ভয় পেয়ে ভুল করত না বহুত কষ্টে তারে থামাইসি সামনে সুযোগ পেলে দেব আবার , আসলে আমার আর ইচ্ছে ছিল না মারামারি করার । কারন তার কিছুদিন আগে ম্যালেরিয়া জর জিবনী শক্তি প্রায় সবটা শুষে নিয়েছে ।

সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সামনে এতে কিভাবে ক্লাসের সবচেয়ে হিংসুটে মেয়ে গুলি কেন জানি ভাল করত এই সবে, এইবার ঠিক করলাম আমরা গান বা দলীয় নাচ কিছু একটা করব
কিছুদিন কারাতে প্রাকটিস করছিলাম তার কিছু স্টাইল আর বাসের লাঠি দিয়ে কিছু কায়দা কৌশল করে চল চল চল গানের সাথে কিছু একটা দাড় করিয়েছি , অরা সবাই মিলে আমারে ধরায় দিল গান তুই গাবি, এখন সহজ একটা গান বেছে নেবার পালা যতদুর মনে পড়ে

অনুষ্ঠানের দিন পুরান একটা গিটার নিয়ে দাড়াইসি গান গাইতে, গিটার আসলে বাজাতে জানি না তাও নিলাম পার্ট নেয়ার জন্য , মিউজিক বাজানো শুরু হইছে কিন্তু বজ্জাত পোলাপাইনের মুখচোখ দেখে আমার অবস্থা কাহারপ হয়ে গেল আমি গান গাইতে পারছি না , আতঙ্কে ভুলে গেছি , আসলে অত মানুষের সামনে ভড়কে গেছি

এই পদ্মা, এই মেঘনা,
এই যমুনা সুরমা নদী তটে।
আমার রাখাল মন, গান গেয়ে যায়
এই আমার দেশ, এই আমার প্রেম
আনন্দ বেদনায়, মিলন বিরহ সংকটে।

এই রকম সোজা গানটাই মনে আসছে না , অথচ কত বার প্রাক্টিস করছি , ভাব নেয়ার জন্য গিটারর ওজন যেন মন খানেক বেড়ে গেছে , খাইসে মান ইজ্জত সব গেলগা , এখন নিজের বন্ধুদের হাত থেকেও নিস্তার পাব কিনা সন্ধেহ আছে,

হাতে সেই গিটার টার কর্ডে আঙ্গুল দিয়ে নাড়া চাড়া করি দেখি মাইকে ব্যপক জোরে টুং টাং করে আওয়াজ হয়, আরি সালা ভারি মজাতো, এই বার মাত্র ২ টা কর্ড ধরে টুং টিং টাং টা টাং করে যাচ্ছি হেলে দুলে, আর চোখ বুজে মনে করে যাচ্ছি কোন গান টা মনে আছে । হুট করে মনে পড়ল ক্যাসেটে শুনা পুরানো হিন্দি গান

বেকারার কারকে হামনে ইউ না যাইয়ে
আপকো হামারি কাসাম লট আইয়ে
বেকারার কারকে হামনে ইউ না যাইয়ে
আপকো হামারি কাসাম লট আইয়ে

গান শুরু করার পর দেখি সব থেমে গেছে আমি অ টুং টাং টিং টাং টা টাং করে করে হেলে দুলে জায়গায় দাঁড়িয়ে হাল্কা নাচে চোখ বুজে বুজে খুব আরামে গানটা গেয়ে যাচ্ছি কারন এই সব গান শুনতে শুনতে ঠোটের আগায় ছিল, আগে বয়স্ক মানুষেরা প্রায় এই সব পুরান গান শুনত, রেডিওতে, ক্যাসেটে, মালাই অলা থেকে শুরু করে খাবার দোকান, সেলুন সব জায়গায় ।

গান শেষে তালিতে ফেটে পড়ল সবাই, আমাদের গেম টিচার ছড়ী হাতে দৌড় শুরু করল বারান্দা থেকে, কিন্তু কোন দিন ধরতে পারেন নি, কিন্তু উনি দৌড়ানি শুরু করলে হবে কি ঘটনা যা ঘটানের তা ঘটিয়ে ফেলেছি , দলীয় নাচে প্রথম আর একক গানে ২য় ।

পর থেকে মানুষজন আমাদের দাঙ্গাবাজির ঘটনা ভুলেই গিয়েছিল ।

%d bloggers like this: